
দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে রেকর্ড ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে এই সর্বোচ্চ লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫১ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। এর আগে গত ৩ আগস্ট সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট।
গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। নির্দিষ্ট কোনো শিডিউল না থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এতে গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজ, শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকা এবং ভারত থেকে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় সেখানে উৎপাদন কমে গেছে। একই সঙ্গে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণও কমেছে, যা সামগ্রিক ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি নাজুক। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কৃষিকাজ, ব্যবসা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। যশোরের অভয়নগরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় একটি পোলট্রি খামারে চার শতাধিক মুরগি মারা গেছে।
পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। বরফের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় শত শত ট্রলার ঘাটে নোঙর করে আছে।
সিলেটে চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। রংপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ছোট শিল্পকারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যেখানে দেশের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট একসঙ্গে চলমান থাকায় পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।